নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪ | প্রিন্ট | 159 বার পঠিত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট লেখক, সমালোচক শিবনারায়ণ রায় বলেছিলেন, “বাংলা কবিতায় নতুন সম্ভাবনা এনেছেন আল মাহমুদ। পশ্চিম বাংলার কবিরা যা পারেননি, তিনি সেই অসাধ্য সাধন করেছেন।” কবি নিজেই বলেছিলেন, হিন্দির দাপটে কলকাতা থেকে বাংলা বিতাড়িত প্রায়। কলকাতার লেখকরা ঢাকামুখী, সময় বদলে যাচ্ছে। কিন্তু তাতে আত্মতৃপ্তির বা আত্মশ্লাঘা অনুভব করার কিছু নেই। হিন্দির দাপট কিন্তু বাংলাদেশেও দেখা যাচ্ছে। আকাশ সংস্কৃতির যুগে স্যাটেলাইটের সহায়তায় বাংলাদেশের ঘরে ঘরে এখন হিন্দির অধিষ্ঠান ঘটে চলেছে।’ কবিতা, গল্প-উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, প্রবন্ধ, স্মৃতিগদ্য, কলাম সহ বাংলা ভাষার সব ক্ষেত্রেই তিনি ফসল ফলিয়েছেন, তিনি বুঝতে পারছিলেন যে ভাষাটা বেশ সংকটে আছে।
কবির ‘সোনালি কাবিন’ এক স্বর্ণালি শস্যের সম্ভার। বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদ থেকে আজকের বাংলাদেশ– ১৪টি সনেটের মালায় সুরেলা সুগন্ধি কাব্যঝঙ্কারে চিত্রিত। কবি আল মাহমুদের তুলনা আল মাহমুদই। তিনি অনন্য, অনুকরণীয়: কবির নিজের ভাষায়, ‘আমার লড়াই তথাকথিত শিক্ষিত শ্রেণির বিরুদ্ধে একজন কবির লড়াই’। তাই ‘সোনালী কাবিন’ শব্দ দুটো উচ্চারণ করলেই যার নাম সামনে আসে, তিনি হচ্ছেন কবি আল মাহমুদ। গত ৫০ বছর ধরে বাংলা কবিতার জগতে আলোড়ন তুলেছেন এই কবি। আল মাহমুদের কবিতার বিষয়বস্তুতে প্রথম দিকে গ্রামের জীবন, বামপন্থী চিন্তা-ধারা এবং নারী মুখ্য হয়ে উঠলেও পরবর্তীতে ইসলামী ভাবধারাও প্রবল হয়ে উঠে।

কবি আল মাহমুদ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে প্রতিষ্ঠিত সরকারবিরোধী সংবাদপত্র দৈনিক ‘গণকণ্ঠ’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন, জেল খেটেছেন স্বৈরাচার বিরোধী লেখার জন্য।
আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে মীর আবদুর রব ও নাম রওশন আরা মীর দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতৃপ্রদত্ত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তার দাদার নাম আবদুল ওহাব মোল্লা যিনি হবিগঞ্জ জেলায় জমিদার ছিলেন। ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ইন্তেকাল করেন; মৃত্যু নিয়ে কবির ভাবনা ছিল অন্যরকম: কেউ বিশ্বাস করুক বা না করুক, এই মরজগতে মৃত্যুই সুন্দর। সব অমরতার গল্পই কীটদষ্ট কাগজমাত্র।’ তাই তিনি শুধু কবি পরিচয়েই সন্তুষ্ট ছিলেন, অমরত্ব চাননি: ‘কবির কাজ স্বপ্ন দেখানো, আমি এই জাতিকে স্বপ্ন দেখিয়েছি।’
‘কেউ কি আরেকটি সোনালী কাবিন লিখতে পেরেছে?’ কবির প্রশ্ন ছিল! আমরা সেটা মনে করি না। দেশের ও বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান শক্তিমান কবি আল মাহমুদের ৮৮ম জন্মবার্ষীকিতে এবি পার্টি ওনার রুহের মাগফেরাত কামনা করছে।
Posted ১০:০১ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪
banglapostbd.news | Rubel Mia
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
৭৮/৩ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০।